খুলশীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান: ওয়াকিল বগার অনুসারীসহ গ্রেপ্তার ৫

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৬-১০-০৪ , ০৭:১০ পিএম

খুলশীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান: ওয়াকিল বগার অনুসারীসহ গ্রেপ্তার ৫ ছবি: নাগরিক পত্রিকা

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজন এবং নিষিদ্ধ সংগঠন চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন বাচ্চুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত একজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) জালালাবাদ ও কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

খুলশী থানা পুলিশ জানায়, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জনাব মো. হাসান মোস্তফা স্বপন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জনাব সোহেল পারভেজ এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (বায়েজিদ বোস্তমী জোন) জনাব মোহাম্মদ আরিফ হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোহাম্মদ আবদুর রহিম এবং অপারেশন অফিসার এসআই গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার চারজন বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন বগার নেতৃত্বাধীন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও অনুসারী হিসেবে পুলিশের কাছে পরিচিত। অপর একজনকে নিষিদ্ধ সংগঠন চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন বাচ্চুর অনুসারী বলে দাবি করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোহাম্মদ আব্দুল হাসান ওরফে কালা হাসান (৩৫), সাবিহা বেগম ওরফে শাবুব (৬০), মো. মনির হোসেন ইমন (৪২), মোহাম্মদ শাহজাহান (৩৩) এবং জাহিদ হোসেন সাব্বির (২১)।

পুলিশের দাবি, খুলশী থানা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকিল হোসেন বগার নেতৃত্বাধীন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। দলবদ্ধভাবে চলাফেরা, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, জায়গা-জমি দখল, মারামারি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

খুলশী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম নাগরিক পত্রিকাকে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলশী থানা পুলিশের একটি বিশেষ আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার জালালাবাদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই দিন কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহিদ হোসেন সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে আরও দায়িত্ব পালন করেন এসআই মো. আনিচুর রহমান, এসআই মো. আনোয়ার হোসেন, এসআই মো. আব্দুল মতিন, এসআই মো. জালাল আহমেদ ও এসআই মো. তানভীর ভূঁইয়া। এ ছাড়া এএসআই জাকির হোসেন, এএসআই মো. মহর উদ্দিনসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্য ও নারী কনস্টেবলরা অভিযানে অংশ নেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আব্দুল হাসান ওরফে কালা হাসানের পিতা মৃত আবদুল হালিম, মাতা হাসিনা বেগম। তার ঠিকানা খুলশীর ঝাউতলা এলাকার টিকেট প্রিন্টিং, ২য় মাঠ। সাবিহা বেগম ওরফে শাবুবের পিতা মৃত মো. ইউসুফ, স্বামী মো. জামিল; তিনি খুলশীর ওয়ালেস ৪ নম্বর লেইন এলাকায় বসবাস করেন।

মো. মনির হোসেন ইমনের পিতা মৃত গোলাম মোস্তফা, মাতা নাছিমা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের চৌকাতলী গ্রামে এবং বর্তমান ঠিকানা খুলশীর জালালাবাদ এলাকায়। মোহাম্মদ শাহজাহানের পিতা লাল মিয়া, মাতা পেয়ার বেগম; তিনি জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় বসবাস করেন।

অপরদিকে জাহিদ হোসেন সাব্বিরের পিতা আনোয়ার হোসেন ও মাতা জেসমিন বেগম। তার ঠিকানা খুলশীর কুসুমবাগ আবাসিক এলাকার গরীবুল্লাহ শাহ মাজারসংলগ্ন এলাকায়। পুলিশ তাকে মহিউদ্দিন বাচ্চুর অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।